মুকেশ আম্বানি কত টাকার মালিক? (২০২৬ সর্বশেষ তথ্য)

মুকেশ আম্বানি কত টাকার মালিক জানেন কি? রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি বর্তমানে প্রায় ৯১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক যা বাংলাদেশি ও ভারতীয় মুদ্রায় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ। ফোর্বস ও ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনী এবং বিশ্বের প্রথম ২৫ জন ধনীর তালিকায় অন্যতম।

শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণেই নয়, তার পারিবারিক ঐতিহ্য, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং রিলায়েন্স গ্রুপের বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণের কারণেও তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচিত একটি নাম। ভারত ও বাংলাদেশের বহু মানুষ তার সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎস এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

Table of Contents

মুকেশ আম্বানির প্রাথমিক জীবন কেমন ছিল?

মুকেশ আম্বানি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল, তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ এডেনে (বর্তমান ইয়েমেন), একটি গুজরাটি হিন্দু পরিবারে। তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি ছিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা, আর মা কোকিলাবেন আম্বানি। তার ছোট ভাই অনিল আম্বানি এবং দুই বোন নিনা কোঠারি ও দীপ্তি সালগাওকরও রয়েছেন।

এডেনে খুব বেশিদিন থাকেননি আম্বানি পরিবার। ১৯৫৮ সালে তার বাবা মশলা ও বস্ত্র ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে ভারতে ফিরে আসেন। মুম্বাইয়ের ভুলেশ্বর এলাকায় একটি সাধারণ দুই কক্ষের ফ্ল্যাটে বসবাস করত তাদের পরিবার, প্রায় ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত। আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও তখনো আম্বানি পরিবহনের জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতেন এবং কোনো বাড়তি হাতখরচও পেতেন না। পরবর্তীতে তার বাবা কোলাবা এলাকায় ১৪ তলাবিশিষ্ট ‘সি উইন্ড’ নামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কেনেন, যেখানে দুই ভাই আলাদা আলাদা ফ্লোরে পরিবারসহ থাকতেন।

মূল কথা: মুকেশ আম্বানি একেবারে সাধারণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তার পরিবার বিশ্বের অন্যতম ধনী পরিবারে পরিণত হয়।

মুকেশ আম্বানির শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?

মুকেশ আম্বানির প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া স্কুলে, এরপর মুম্বাইয়ের পেডার রোডের হিল গ্রেঞ্জ হাই স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন, যেখানে তার ভাই ও পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনন্দ জৈনও তার সহপাঠী ছিলেন। এরপর তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন এবং ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিই ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরবর্তীতে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করার জন্য ভর্তি হন, যেখানে মাইক্রোসফটের সাবেক সিইও স্টিভ বলমার তার সহপাঠী ছিলেন। তবে ১৯৮০ সালে বাবাকে রিলায়েন্স গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য তিনি পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেন। তার বাবা মনে করতেন, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই প্রকৃত দক্ষতা অর্জিত হয়, ক্লাসরুমে বসে নয় — তাই তিনি ছেলেকে স্ট্যানফোর্ড থেকে ডেকে নিয়ে একটি সুতা তৈরির প্রকল্পের দায়িত্ব দেন।

তার শিক্ষক উইলিয়াম এফ শার্প এবং মন মোহন শর্মার প্রভাব তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা তাকে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে ভাবতে শিখিয়েছিলেন।

মূল কথা: প্রথাগত ডিগ্রি সম্পূর্ণ না করেও বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক ব্যবসার হাতে-কলমে কাজের মধ্য দিয়েই মুকেশ আম্বানি তার ব্যবসায়িক দক্ষতা গড়ে তোলেন।

মুকেশ আম্বানির ক্যারিয়ার কীভাবে শুরু হয়েছিল?

মাত্র ২৪ বছর বয়সে মুকেশ আম্বানিকে পাতালগঙ্গা পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যখন রিলায়েন্স তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছিল। তিনি রিলায়েন্স ইনফোকম লিমিটেড (পরবর্তীতে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্স) প্রতিষ্ঠা করেন, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কাজ করত।

তার নেতৃত্বেই জামনগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রাসরুটস পেট্রোলিয়াম শোধনাগার তৈরি হয়, যা ২০১০ সালে দৈনিক ৬,৬০,০০০ ব্যারেল তেল শোধন করতে সক্ষম ছিল। ২০১৩ সালে তিনি ভারতী এয়ারটেলের সাথে ৪জি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নিয়ে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথা জানান, এবং ২০১৪ সালে ঘোষণা দেন যে আগামী তিন বছরে বিভিন্ন ব্যবসায় ১.৮ ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করবেন এবং ২০১৫ সালে ৪জি ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করবেন।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেজি বেসিন থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপরও ২০১৬ সালে তিনি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সদস্য নির্বাচিত হন তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে তার নেতৃত্বের জন্য।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে তিনি আলিবাবা গ্রুপের জ্যাক মা-কে টপকে এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন, তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৪.৩ বিলিয়ন ডলার। ব্লুমবার্গের “রবিন হুড ইনডেক্স” অনুযায়ী ২০১৮ সালে তার ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ২০ দিনের কার্যক্রম চালানো সম্ভব বলে হিসাব করা হয়েছিল।

রিলায়েন্সের মাধ্যমে তিনি আইপিএল ক্রিকেট দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক এবং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ফুটবল লিগের প্রতিষ্ঠাতা। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরও রাশিয়ার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সমালোচিত হয়েছে — ২০২৫ সালে ভারত তার মোট তেল আমদানির ৪২ শতাংশ রাশিয়া থেকে করেছে, যেখানে রিলায়েন্স সবচেয়ে বড় আমদানিকারক।

মূল কথা: জামনগর শোধনাগার নির্মাণ থেকে শুরু করে টেলিকম ও ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগ — মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বেই রিলায়েন্স একাধিক খাতে সম্প্রসারিত হয়েছে, যদিও কিছু বিতর্কও তার ক্যারিয়ারের সাথে জড়িয়ে আছে।

মুকেশ আম্বানি কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন?

মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, পাশাপাশি কোম্পানির ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এবং এমপ্লয়িজ স্টক কম্পেনসেশন কমিটির সদস্য। এছাড়া তিনি রিলায়েন্স রিটেইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন ডিএমসিসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি, মুম্বাইয়ের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য এবং গুজরাটের পণ্ডিত দীনদয়াল পেট্রোলিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং অতীতে ব্যাংক অব আমেরিকা কর্পোরেশনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন — এই পদে দায়িত্ব পালনকারী তিনিই প্রথম অ-আমেরিকান নাগরিক ছিলেন।

মুকেশ আম্বানি কী কী পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন?

মুকেশ আম্বানি তার ব্যবসায়িক নেতৃত্বের জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। নিচের টেবিলে তার উল্লেখযোগ্য কিছু পুরস্কারের তালিকা দেওয়া হলো।

সালপুরস্কার/সম্মাননাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
২০০০আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং এন্টারপ্রেনার অব দ্য ইয়ারআর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং ইন্ডিয়া
২০১০গ্লোবাল ভিশন অ্যাওয়ার্ডএশিয়া সোসাইটি
২০১০ডিন’স মেডেলইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া
২০১০বিশ্বের ৫ম সেরা পারফর্মিং সিইওহার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ
২০১০গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডবিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং
২০১৬ফরেন অ্যাসোসিয়েটন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং
২০১৬অথমার গোল্ড মেডেলকেমিক্যাল হেরিটেজ ফাউন্ডেশন

এছাড়া ২০১৫ সালে চীনের হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী তিনি ভারতের পঞ্চম শীর্ষ দানশীল ব্যক্তি হিসেবে স্থান পান, এবং ফোর্বসের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা একমাত্র ভারতীয় ব্যবসায়ী তিনি।

মূল কথা: ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, প্রকৌশল অবদান এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মুকেশ আম্বানি বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

আরও জেনে নিনঃ ইলন মাস্ক কত টাকার মালিক

মুকেশ আম্বানির বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি ও জরিমানার অভিযোগ কী?

রিলায়েন্স পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (আরপিএল)-এর শেয়ার কারসাজির জন্য ২০০৭ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে ৯৫০ কোটি রুপি জরিমানা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৪৭ কোটি রুপি ছিল ফেরত নেওয়া মুনাফা এবং ৫০০ কোটি রুপি সুদ বাবদ। ২০০৬ সালের এপ্রিলে আরপিএল রিলায়েন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতি শেয়ার ৬০ রুপিতে বাজারে আসে। প্রায় ১০০ রুপিতে পৌঁছানোর পর বাজার ৩০ শতাংশ ধসে পড়ে এবং শেয়ারের দাম আবার ৬০ রুপিতে ফিরে আসে।

ভারতের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (সেবি)-এর নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে দেখা যায়, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে আরপিএল-এর শেয়ার লেনদেনে অননুমোদিত মুনাফা অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে কারসাজি চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আরপিএল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সাথে একীভূত হয়ে যায়।

মুকেশ আম্বানি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কী সমালোচনা রয়েছে?

মুকেশ আম্বানি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। মোদির শাসনামলে তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন, যা নিয়ে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এবং প্লুটোক্র্যাসি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে।

মূল কথা: শেয়ার কারসাজির জন্য জরিমানা এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ — উভয় বিষয়ই মুকেশ আম্বানির ব্যবসায়িক যাত্রার একটি বিতর্কিত দিক তুলে ধরে, যদিও তার সম্পদ ও প্রভাব দিন দিন বেড়েছে।

মুকেশ আম্বানির ব্যক্তিগত জীবন কেমন?

মুকেশ আম্বানি ১৯৮৫ সালে নীতা আম্বানিকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে আকাশ (জন্ম ১৯৯১) ও অনন্ত (জন্ম ১৯৯৫), এবং একটি মেয়ে ইশা, যিনি আকাশের যমজ বোন। তাদের পরিবার মুম্বাইয়ের আন্টিলিয়া নামক ২৭ তলাবিশিষ্ট ব্যক্তিগত ভবনে বসবাস করে, যেটি নির্মাণকালে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে পরিচিত ছিল, যার মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এই ভবন রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৬০০ জন কর্মী প্রয়োজন হয়, এবং এতে রয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড, ১৬০টি গাড়ি রাখার গ্যারেজ, প্রাইভেট থিয়েটার ও সুইমিং পুল।

২০০৮ সালে আইপিএল ক্রিকেট দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কেনার পর তাকে “বিশ্বের সবচেয়ে ধনী স্পোর্টস টিম মালিক” আখ্যা দেওয়া হয়। ২০১২ সালে তিনি নিজের বেতন থেকে প্রায় ২৪ কোটি রুপি স্বেচ্ছায় বাদ দিয়েছিলেন, যদিও কোম্পানির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতন সেই বছর বেড়েছিল।

২০১৯ সালে যখন তার ছোট ভাই অনিল আম্বানি এরিকসনের ঋণ পরিশোধ না করার জন্য আদালতে অবমাননার শাস্তির মুখোমুখি হন, তখন মুকেশ আম্বানি নিজে সেই ঋণ পরিশোধ করে ভাইকে সাহায্য করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার ছেলে অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে, যার খরচ আনুমানিক ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানা যায় — যা নিয়ে ভারতে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।

২০২৪ সালে তিনি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ বিমান কেনেন, যা ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এই মডেলের বিমান। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিউ ইয়র্কের ট্রাইবেকা এলাকায় একটি ভবন কেনেন প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারে, যা বিলাসবহুল আবাসনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মূল কথা: ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মুকেশ আম্বানির বিলাসবহুল জীবনযাপন, পারিবারিক বন্ধন এবং বলিউড তারকাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা তাকে জনসমক্ষে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে রাখে।

মুকেশ আম্বানির মতো ধনী না হয়েও কীভাবে বাড়তি আয় করা যায়?

মুকেশ আম্বানির মতো বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে সাধারণ মানুষও নিজের সাধ্যের মধ্যে থেকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিতে পারেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন থেকে ছোট পরিসরে আয় করার একাধিক উপায় তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে video dekhe taka income বা ভিডিও দেখে টাকা আয় করার পদ্ধতি একটি জনপ্রিয় উদাহরণ।

যদিও এই ধরনের আয়ের পরিমাণ কোনোভাবেই আম্বানির সম্পদের সাথে তুলনীয় নয়, তবুও এটি দেখিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ছোট থেকে বড় — সব স্তরের মানুষই আজকাল কোনো না কোনোভাবে আর্থিক সুযোগ খুঁজে নিতে পারছেন। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হোক বা ছোট পরিসরে ডিজিটাল আয়ের চেষ্টা — উভয় ক্ষেত্রেই ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং সঠিক সময়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমনটা আম্বানি পরিবারের ব্যবসায়িক ইতিহাসেও লক্ষ্য করা যায়।

মূল কথা: বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়া আর ছোট পরিসরে অনলাইন আয় করা— দুটোর স্কেল ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রেই ধৈর্য ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব একই রকম।

মুকেশ আম্বানির সম্পদ কীভাবে এত বৃদ্ধি পেল?

মুকেশ আম্বানির সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বহুমুখী সম্প্রসারণ। তেল শোধনাগার থেকে শুরু করে টেলিকম, রিটেইল, মিডিয়া এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

তার বাবা ধীরুভাই আম্বানির মৃত্যুর পর ২০০২ সালে ব্যবসার মালিকানা তার ও তার ভাই অনিল আম্বানির মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এরপর মুকেশ আম্বানি তার অংশের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করেন এবং জিও-এর মতো টেলিকম উদ্যোগ চালু করে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৫০.৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক, যা তার সম্পদের একটি বড় অংশ তৈরি করেছে।

মূল কথা: তেল, টেলিকম, রিটেইল ও মিডিয়া — বিভিন্ন খাতে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগই মুকেশ আম্বানির সম্পদ বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

মুকেশ আম্বানি কত টাকার মালিক?

মুকেশ আম্বানি বর্তমানে প্রায় ৯১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক, যা তাকে এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির স্থানে রেখেছে।

মুকেশ আম্বানি কোন কোম্পানির চেয়ারম্যান?

তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

মুকেশ আম্বানির স্ত্রী ও সন্তান কারা?

তার স্ত্রী নীতা আম্বানি। তাদের দুই ছেলে আকাশ ও অনন্ত এবং একটি মেয়ে ইশা রয়েছে।

মুকেশ আম্বানির বাড়ির নাম কী?

তিনি মুম্বাইয়ের আন্টিলিয়া নামক ২৭ তলাবিশিষ্ট ব্যক্তিগত ভবনে বসবাস করেন, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বাসভবন।

মুকেশ আম্বানি কোন ক্রিকেট দলের মালিক?

তিনি আইপিএল ক্রিকেট দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক।

মুকেশ আম্বানি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ এডেনে (বর্তমান ইয়েমেন) জন্মগ্রহণ করেন।

মুকেশ আম্বানির বাবার নাম কী?

তার বাবার নাম ধীরুভাই আম্বানি, যিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা।

শেষ কথা

মুকেশ আম্বানি তার ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বহুমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তার জীবনযাত্রা, সম্পদ এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও তার সাফল্যের সাথে জড়িয়ে আছে। সময়ের সাথে সাথে তার সম্পদের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ পরিসংখ্যানের জন্য ফোর্বস বা ব্লুমবার্গের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে নেওয়া উত্তম।

Leave a Comment

Skip to content